প্রতিদিন ২৪ ডেস্ক
গত বুধবার বিদেশি উদ্যোক্তাদের তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া পর রাজনৈতিক বিবেচনায় আরো ছয়টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ
সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর অনুমোদন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকর এ ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।
ব্যাংক গুলো হলো-সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমারস ব্যাংক, মহাজোটের প্রধান শরিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রস্তাবিত ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের মধুমতি ব্যাংক, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান ও নসরুল হামিদের প্রসত্মাবিত মেঘনা ব্যাংক। এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে আশিকুর রহমানের।
এছাড়া শেখ হাসিনার অত্যমত্ম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মনিরুজ্জামান খন্দকারের প্রস্তাবিত ব্যাংকের নাম মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং আওয়ামী লীগ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী উদ্যোক্তা হিসেবে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর এসব বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের সদস্য অর্থনীতিবিদ ড.সাদিক আহমেদ, অধ্যাপক হান্নানা বেগম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড’র চেয়ারম্যান ড. নাছির উদ্দিন, অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, বাংলাদেশ গবেষণা পরিষদের(বিআইডিএস) মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. আবুল কাশেম বৈঠকে ছিলেন।
গত ৪ এপ্রিলের বৈঠকে অনুমোদন দেয়া তিনটি এনআরবি বাংক হলো যুক্তরাজ্যে প্রবাসী ইকবাল আহমের আবেদন করা ‘এনারবি ব্যাংক লিমিটেড’ আমেরিকা প্রবাসী ফরাসত আলীর আবেদন করা ‘এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড’ এবং আমেরিকার নিজাম চৌধুরী আবেদন করা ‘এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড’।
বর্তমানে দেশে সরকারি ব্যাংক চারটি, বেসরকারি ব্যাংক ৩০, বিশেষায়িত চারটি, বিদেশী নয়টিসহ মোট ৪৭টি ব্যাংক রয়েছে। এর বাইরে প্রবাসীদের তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়া ৩৭টি আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে ১৬টির লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর পর অনুমোদনের জন্য গত চারে এপ্রিল পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হয়। আলোচনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ওইদিন ৮ এপ্রিল নিয়ে বৈঠক করার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন